ডেস্ক: নির্বাচনে নেই বিএনপি। ভোটের মাঠে আলোচনা তৈরি করা চরমোনাইর পীরের ইসলামী আন্দোলনও সরে গেছে। ভোটের পরিসংখ্যানে দুর্বল জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে থাকতে চাননি। আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী জাকের পার্টি কখনোই হিসাবে ছিল না।
এমন একতরফা পরিস্থিতিতে আজ বুধবার রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের তৃতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। তাই ফলের চেয়ে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ বেশি। নৌকার প্রার্থী বলেছেন, বিএনপি অংশ না নেওয়ায় ভোট জমেনি।
বিএনপি ভোটে না থাকায় ধারণা করা হয়েছিল, ধানের শীষের ভোটের একাংশ পেয়ে নৌকাকে টক্কর দেবে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা। তবে ১২ জুন বরিশালের ভোটে দলটির মেয়র প্রার্থী আক্রান্ত হলে রাজশাহী ও সিলেটের নির্বাচন বর্জন করেন চরমোনাইর পীর। হাতপাখার প্রার্থী মুরশিদ আলম নির্বাচন থেকে সরে যান। জাপার প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপনও সরে যেতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমতি চেয়েছিলেন। অনুমতি না মেলায় ভোটে আছেন, তবে না থাকার মতোই। জাকের পার্টির প্রার্থী লতিফ আনোয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার দাবি করলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রেই এজেন্ট দেবেন না।
২০১৮ সালের নির্বাচনে রাজশাহীতে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সেবার ৮৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিএনপিকে হারায় আওয়ামী লীগ। যদিও কারচুপির অভিযোগ করে ধানের শীষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নিজের ভোট দেননি।
তপশিল ঘোষণার পর তাপদাহ শুরু হয় রাজশাহীতে। ফলে নির্বাচনী মিছিল-সমাবেশ খুব একটা হয়নি গরমের কারণে। তবে ভোটের দু’দিন আগে চলছে বৃষ্টি। বৈরী আবহাওয়ায় ভোটার উপস্থিতি আরও কমার শঙ্কা রয়েছে।
খায়রুজ্জামান লিটনের আশা, আবহাওয়া ভালো থাকলে ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোটার উপস্থিত হতে পারেন। তিনি বলেন, অনেকে ধরেই নিয়েছেন আমি মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছি। তাই ভোট দিতে আগ্রহ কম। সবাইকে অনুরোধ করছি কেন্দ্রে আসবেন, ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতারা কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের সমর্থকরা ভোট দিতে আসবেন। নির্বাচনের পর কেউ যেন সহিংসতায় না জড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখছি।
লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, কর্মীদের সামান্য কেন্দ্র খরচ দিয়েছি। ৬৫ কেন্দ্রে এজেন্ট দিয়েছি। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। এ অবস্থা থাকলে ভালো ফল আশা করছি। ১৫৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছয়জন। তাঁদের একজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকায় ভোট নিয়ে আগ্রহ কমলেও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার আনিসুর রহমান বলেছেন, উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। মডেল নির্বাচন হবে।
পুলিশ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আজ রাত থেকে ২৪ ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে রাজশাহীতে। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত গাড়ি চলতে পারবে।
গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় দেড় গুণ ইভিএম থাকছে। যাতে কোনো মেশিনে সমস্যা হলে, অন্যটিতে ভোট গ্রহণ করা যায়। কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। ভোট কক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ঢাকা থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন।