আর্কাইভ  শুক্রবার ● ৪ এপ্রিল ২০২৫ ● ২১ চৈত্র ১৪৩১
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ৪ এপ্রিল ২০২৫
শুভেচ্ছাবার্তা:
উত্তর বাংলা ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক ।

রংপুরে ৩ পুলিশকে প্রত্যাহার, ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫, বিকাল ০৫:৩৫

Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি: দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার রংপুরের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি এম এ সালাম বিশ্বাসকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার ও ওসি আতিকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুর ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংবাদিক আব্দুস সালামকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় দায়ী এএসআই রবিউল আলম, কনস্টেবল আলামিন হোসেন ও মজিবর রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এক কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য বুধবার (১৯ মার্চ) দুপুরে বদরগঞ্জ থানা ক্যাম্পাসে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের মধ্যকার হট্টগোলের ছবি তুলতে গেলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিক এম এ সালাম বিশ্বাসকে আটক করে বেধড়ক মারধর করে। পরে তাকে চ্যাংদোলা করে ওসি আতিকুর রহমানের সামনে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করে। ছিঁড়ে ফেলা হয় তার পরনে থাকা শার্ট।

এরপর তাকে ওসির রুমে নিয়ে গিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এরপর অভিযুক্তদের সঙ্গে মীমাংসা করে দেওয়ার নাটক করেন। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। এখনও তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

পুলিশের নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক এম এ সালাম বলেন, বদরগঞ্জ থানা ফটকের সামনে শহীদ মেনাজ সংঘ পাঠাগারে বসে আমি নিউজ লিখছিলাম। এ সময় বাইরে শব্দ শুনি গণ্ডগোলের। ক্লাব থেকে বের হয়ে দেখি পুলিশের পিকআপ ভ্যানে দুই জন পুলিশ এবং বাইকে দুই জন পুলিশ নিজেদের মধ্যে উচ্চবাচ্য এবং হট্টগোল করছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার মোবাইলে ভিডিও করতে থাকি। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা এএসআই রবিউল আমার মোবাইল ফোন ও ব্যাগ কেড়ে নেয়। আমি এর প্রতিবাদ করলে বাইকে থাকা দুই জনের সঙ্গে পিকআক ভ্যানে থাকা দুই জন নেমে আমাকে কিলঘুষি লাথি মারতে থাকে। পরে তারা চার জন মিলে আমাকে চ্যাংদোলা করে থানার ভেতরে নিয়ে ওসির সামনে ফেলে লাথি, ঘুষি ও থাপ্পড় মারতে থাকে। এতে আমি গুরুতর আহত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শরিফুল জানান, তার পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ রয়েছে। পায়ের জন্য একটা এক্স-রে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ডেঞ্জার লেভেলে নাই।

বদরগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। পরে মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন ও রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, ‘এটি জঘন্যতম অপরাধ করেছে পুলিশ। তারা প্রকাশ্য হট্টগোলে জড়াবে। আর ছবি তুললে তাদের অসুবিধা হবে। এটা মেনে নেওয়ার মতো বিষয় নয়। এ ঘটনায় তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যাতে কখনই কোনও পুলিশ সদস্য এ ধরনের অপরাধে না জড়ান।’

অপরদিকে রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের সদস্য সচিব লিয়াকত আলী বাদল বলেন, ‘পুলিশ সাংবাদিক সালামকে পিটিয়ে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এটা খুবই অ্যালার্মিং বিষয়। যা সাংবাদিক সমাজ কখনই কোনোভাবে বরদাশত করবে না। শুধু প্রত্যাহার করেই যদি পুলিশ মনে করেন ঘটনার সমাধান হয়েছে, সেটা বুমেরাং হবে। আমরা দেখতে চাই এ ঘটনার যথাযথ আইনানুগ অ্যাকশন। পুরো ঘটনার সময় থানার ওসি চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তার বিষয়ে এখনও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।’

মন্তব্য করুন


Link copied