আর্কাইভ  শুক্রবার ● ৪ এপ্রিল ২০২৫ ● ২১ চৈত্র ১৪৩১
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ৪ এপ্রিল ২০২৫
শুভেচ্ছাবার্তা:
উত্তর বাংলা ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক ।

‘স্বাধীনতা ২.০’ নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ফারুকী

বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, রাত ১২:০০

Advertisement

নিউজ ডেস্ক:  গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে। সেদিন গণভবন থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে একটি কথা বেশ চাউর হয়েছে—‘স্বাধীনতা ২.০’ অর্থাৎ দ্বিতীয় স্বাধীনতা। অর্থাৎ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী দুঃশাসনের অবসানকে মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন আখ্যা দিচ্ছেন আওয়ামী বিরোধীরা। তবে ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থানকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলতে কেউ কেউ নারাজ। তারা নিজেদের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে তুলে আনছেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ।

সম্প্রতি ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দিন’ নামের টকশোতে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দনের এ বিষয়ক একটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সংস্কৃতি উপদেষ্টার সেই বক্তব্য বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হলো। ‘টক শো’তে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, “দ্বিতীয় স্বাধীনতা মানে কী? দ্বিতীয় স্বাধীনতা তো আক্ষরিক অর্থে নিলে হবে না। এটা কবিতা, এটা অ্যালেগরি (রূপক অর্থে)। দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলতে বা স্বাধীনতার নবায়ন বলতে বোঝায়... মুক্তিযুদ্ধ আসলে কেন হইছিল, মুক্তিযুদ্ধ হইছিল যে, আমার দেশ আমি চালাব, আমার মতো করে। আমার দেশটা আরেকজন চালাবে না। কিন্তু গত ১৫ বছরে মানুষের মধ্যে এই প্রশ্ন নানাভাবে এসেছে যে, বাংলাদেশটা কি বাংলাদেশ চালাচ্ছে নাকি অন্য কেউ চালাচ্ছে।

আপনি খেয়াল করে দেখুন, সুজাতা সিং ২০১৩-এর ইলেকশনের সময় এসে, উনি কেন এরশাদকে বলছেন—‘তোমাকে ইলেকশনে আসতে হবে’। হোয়াট ইস দ্য রিজন? বাংলাদেশ থেকে কি আমরা গিয়ে রাহুল গান্ধীকে বলি—‘তোমাকে ইলেকশনে আসতে হবে’। তার মানে কী? তার মানে আপনি দেশটাকে এক্সপোজ করেছিলেন, কমপ্লিটলি আপনি কিছু কিছু জিনিস সারেন্ডার করেছিলেন। আপনি বলতে বোঝাচ্ছি সরকার, তৎকালীন সরকার। ...একটা দেশের ফরেন মিনিস্টার এরকম বক্তৃতা দেয়নি? ‘আমি মোদিজিকে বলে এসেছি—আওয়ামী লীগকে যেন ক্ষমতায় রাখে’। ...ওবায়দুল কাদের বলেননি একথা? এটা সবাই বলেছে—‘তলে তলে সব হয়ে গেছে!’ এখন এইটার অর্থ কী? এইটার অর্থ, আপনার দেশটা আপনি চালাচ্ছিলেন না। আপনার দেশটা চালাচ্ছিল অন্য আরেকটা দেশ। এটা মুক্তিযুদ্ধের কমপ্লিট কম্প্রোমাইজ।

এখন মুক্তিযুদ্ধকে আপনি যখন কমপ্লিট কম্প্রোমাইজ করেছেন, কিন্তু আবার মুক্তিযুদ্ধের বড়ি বিক্রি করছেন, (মুক্তিযুদ্ধের) পক্ষের শক্তির বড়ি। তার মানে তখন বোঝা যায়, আপনি একটা অসৎ উদ্দেশ্যে কাজটা করেছেন।

২০২৪-এর আগস্ট অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে... কেন জাতি এটাকে নবায়ন, আমিও বলেছি, মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন। কেন বলছি? এই কারণে বলছি যে, মুক্তিযুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী জিনিস হচ্ছে, ফলাফলটা হচ্ছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের প্রধান জিনিসটা হচ্ছে স্বার্বভৌমত্ব। অর্থাৎ আমি আমাকে চালাব, অন্যের কথায় আমি চলব না। এইটা যখন ‘গন কেইস’ হয়ে গেল। যখন এমনকি পানি নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার ফলে আবরার ফাহাদকে মরে যেতে হলো। মরে যেতে হলো কার হাতে? ক্ষমতাসীন সরকারের ছাত্রলীগের হাতে। আপনি বোঝেন অবস্থা, হাসিনার সমালোচনা করে নাই, করেছেন আরেক দেশের সমালোচনা। এইটার উত্তর দিচ্ছে হাসিনার বাহিনী।

আমি বলতে চাচ্ছি যে, কনটেক্সটা... দেশটা তো এরকমই ছিল। যখন ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে গেল, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ এটা বিশ্বাস করল—এর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে রিক্লেইম করেছি। অ্যান্ড হুইচ ইজ হোয়াই পিপল আর সেয়িং, এটা মুক্তিযুদ্ধের নবায়ন। ”

মন্তব্য করুন


Link copied