স্টাফরিপোর্টার,নীলফামারী॥ নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে মাঠে কাজ করছে যৌথবাহিনী। এমনকি সঠিক ভাড়া দিয়ে যাত্রাযাত করতে পারে সকলকে এজন্য বিআরটিএ মাঠে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
বৃহস্পতিবার(৩ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বহিী ম্যাজিস্ট্রেট সায়ীদ মুহাম্মদের নেতৃত্বে বাস টার্মিনাল ও জেলা শহরের দূরপাল্লার বিভিন্ন কোচ কাউণ্টারসহ পাঁচমাথা মোড়ে ওই অভিযান পরিচালিত হয়।
এসময় যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র না থাকা ও হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে ছয়টি মামলায় চার হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ যৌথ উদ্যোগে অভিযানে অংশগ্রহন করেন বিআরটিএ নীলফামারী সার্কেলের সহকারী পরিচালক এস.এম মাহবুবুর রহমান, মেকানিক্যাল সহকারী মো. রোহান সরকার রঞ্জু, অফিস সহকারী মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
বিআরটিএ নীলফামারী সার্কেলের সহকারী পরিচালক এস.এম মাহবুবুর রহমান জানান, ঈদ পরবর্তী সময়ে নিরাপদ যাত্রী সেবা ও সঠিক ভাড়া নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ওই অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় জেলা শহর ও টার্মিনালে বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস কাউণ্টার পরিদর্শন করা হয়। এছাড়া পাঁচমাথা মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র না থাকা ও হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় চার হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঈদের পরেও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ টহল ও চেকপোষ্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঈদের তৃতীয় দিনে(৩ এপ্রিল-বৃহস্পতিবার) সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে সার্বক্ষণিক টহল পরিচালনার পাশাপাশি জেলা শহরের বড় বাজার, চৌরঙ্গীর মোড় ও নীলফামারী বাস টার্মিনাল এবং সৈয়দপুর শুটকির মোড় ও পাঁচমাথা মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। সাধারণ জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং আইন শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ড রোধ করতে এসব চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে।
নীলফামারীতে সেনাবাহিনীর লে. নাফি আবরার রহমান ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোমেনুল ইসলাম এবং সৈয়দপুরে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মোস্তফা মজুমদারের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এ সময় নীলফামারীর বড় বাজার মোড়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত রায় ও সৈয়দপুর পয়েন্টে উপ-পরিদর্শক(এসআই) সুজন উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনী সুত্র জানায়, গত ২মার্চ থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভিন্ন ধরনের চেকপোষ্ট ও তল্লাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ পর্যন্ত দুই উপজেলায় ২৬২ টি মামলায় ৮লাখ ৬৩হাজার ৫’শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরমধ্যে নীলফামারীতে ১৫২টি মামলায় ৪লাখ ৯৭হাজার ৬’শ টাকা এবং সৈয়দপুরে ১১০টি মামলায় ৩লাখ ৬৫হাজার ৯’শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। চেকপোষ্টের মাধ্যমে লাইসেন্স ও হেলমেট বিহীন মোটর সাইকেল ও মাইক্রোবাসে একাধিক আরোহী থাকায় তাদেরকে সতর্ক করা হয়। এছাড়াও বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে তল্লাসীসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাসী করা হয়।
সেনাবাহিনীর লে. নাফি আবরার রহমান জানান, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে নীলফামারীতে সাধারণ জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঈদের পরও নিরলস ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।‘যৌথ বাহিনীর চেকপোষ্ট পরিচালনার মুল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত এবং আইন শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ড রোধ করা।