নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হতে পারে, এমন আভাস দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. খলিলুর রহমানের। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকেই আলাপে মগ্ন দেখা গেছে ব্যাংককে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে।
এই চারজনই বর্তমানে ব্যাংককে রয়েছেন সাত দেশের আঞ্চলিক সংস্থা বিমসটেক-এর ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে। তাঁরা সবাই আজ অংশ নেন বর্তমান বিমসটেক চেয়ার থাই প্রধানমন্ত্রী পেতংতর্ন সিনাওয়াত্রা আয়োজিত নৈশভোজে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়—মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি বসা সামনের সারিতে, পাশাপাশি আসনে। কী করে নৈশভোজে পাশাপাশি হলো তাঁদের আসন, তাঁদের আলাপের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই এমনটি করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্ন অনেকের মনে।
বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার কাছে আজকের পত্রিকা জানতে চেয়েছে এ বিষয়ে। তিনি জানান, নৈশভোজের আয়োজক থাই প্রধানমন্ত্রীর আসন মাঝে রেখে তাঁর ডানে ও বামে দুপাশে সাত দেশের নামের ইংরেজি বর্ণক্রম অনুযায়ী আসন বিন্যাস করা। তাতে কাকতাল ঘটে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার প্রধানদের আসনের ক্ষেত্রে।
ইউনূস ও মোদির মধ্যে কথা হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও প্রশ্ন আছে অনেকের। একই কর্মকর্তার জবাব, একই কক্ষে একই টেবিলে পাশাপাশি বসলে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েই থাকে। শীর্ষ ব্যক্তিরা অনেক সময় সহায়ক নিয়ে যান আসল কথা চালাচালির জন্য।
একই নৈশভোজের আরেকটি ছবিতে পেছনে অন্য টেবিলে আলাপে মগ্ন দেখা গেছে- ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. খলিলুর রহমানকে।
নৈশভোজে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. খলিলুর রহমান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আলাপ। ছবি: সংগৃহীত
একই টেবিলে ছিলেন ইউনূসের আস্থাভাজন ও সরকারের বর্তমান এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ। অজিত দোভালকে তাঁর সঙ্গেও আলাপ করতে দেখা গেছে।
অজিত দোভাল নেপথ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় সামাল দিয়ে থাকেন। তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ব্যক্তি, যিনি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘পদত্যাগ করে’ গত ৫ আগস্ট ভারতের দিল্লি চলে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
একই টেবিলে বসে অজিত দোভালের সঙ্গে আলাপ করছেন ইউনূসের আস্থাভাজন ও সরকারের বর্তমান এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ। ছবি: সংগৃহীত
কূটনীতিকেরা বলছেন, ঢাকায় গত ৫ আগস্ট ক্ষমতায় পালাবদলের পর থেকেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে অস্বস্তির বরফ জমাট বেঁধে আছে। বরফ গলানোর আগ্রহ দুদিকেই আছে। আগামীকাল মোদির সঙ্গে ইউনূসের সাক্ষাতে তার সূচনা হয় কিনা, সেটাই দেখার বিষয়।
অজিত দোভাল ও খলিলুর রহমানের মধ্যে কী কথা হয়েছে, জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ সহকারী আগে প্রধান উপদেষ্টাকে বিষয়গুলো জানাবেন। তবে তাঁদের আলোচনায় ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু উদ্বেগের বিষয় থাকতে পারে।