আর্কাইভ  সোমবার ● ৭ এপ্রিল ২০২৫ ● ২৪ চৈত্র ১৪৩১
আর্কাইভ   সোমবার ● ৭ এপ্রিল ২০২৫
শুভেচ্ছাবার্তা:
উত্তর বাংলা ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক ।

প্রচন্ড গরমে গুড় খাবেন নাকি চিনি খাবেন

শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫, দুপুর ০৪:৫১

Advertisement

নিউজ ডেস্ক:  মিষ্টিজাতীয় খাবার কমবেশি সবারই প্রিয়। যেকোনো খুশির সংবাদে সবার আগে আমরা মিষ্টির দোকানেই ছুটে যাই। মিষ্টি ছাড়া যেন আমাদের উৎসব আয়োজন অপূর্ণ থাকে। কমবেশি সবাই আমরা মিষ্টি খেতে ভালোবাসি।

আর এই মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের প্রধান ও মূল উপকরণ হচ্ছে চিনি। তবে এই চিনি খেতে মিষ্টি হলেও এর ফল কিন্তু মোটেই মিষ্টি নয়। অতিরিক্ত চিনি আমাদের স্বাস্থ্যকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

 

চিনির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন ডাক্তার খূশনুর চৈতী। 

তিনি জানান, চিনি একটি নীরব ঘাতক। চিনি শরীরে বিষের মতো কাজ করে অনেকটা। স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে শরীরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। চিনি খাওয়া অনেকটা নেশার মত বলা যায়। বারবার খেতে ইচ্ছে করে। বাজার থেকে যে চিনি কিনে এনে চা কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, সেটি শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

আসুন জেনে নিই, চিনি আমাদের শরীরে যে ধরনের ক্ষতি করে-


১. ওজন বৃদ্ধি করে
চিনি অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রদান করে, যা শরীরে জমা হয়ে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত প্রসেসড চিনি খাওয়ার ফলে স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে শরীর খুব দ্রুত মোটা হয়ে যায়। অতিরিক্ত ফ্যাট জমে গেলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।


২. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়
নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি দৈনিক চিনি থেকে ১৫০ ক্যালরি গ্রহণ করা হয়, তাহলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায় অন্তত ১ দশমিক ১ শতাংশ।


৩.লিভারের ক্ষতি
অতিরিক্ত চিনি খেলে লিভারের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বির স্তর তৈরি হয়। ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে থাকে।


৪.রক্ত চলাচলে বাধা
শরীরের রক্ত চলাচলের ধমনীর দেয়ালের পুরুত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে চিনি। ফলে রক্ত স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়।


৫.স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়
চিনির কারণে আলঝেইমারসের মতো রোগ হতে পারে। ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় চিনি।


৬.প্রদাহ এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে
চিনি প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। অতিরিক্ত চিনে খেলে বিষণ্নতা তৈরি হয়। শরীর সবসময় ক্লান্ত লাগে।


৭.হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়
বেশি মাত্রায় চিনি খেলে রক্তের প্রবাহ পরিবর্তিত হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাক, হার্টফেল করার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।


৮.ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়
ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আয়ু কমিয়ে আনে চিনি। এ ছাড়া চিনি বেশি খেলে ক্যান্সারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।


৯. দাঁতের ক্ষতি করে
চিনি ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবার হিসেবে কাজ করে, যা ক্যাভিটি এবং দাঁতের ক্ষয়ের মূল কারণ। মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের পর ব্রাশ না করলে দাঁতে চিনি লেগে থাকে। ফলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমে দাঁতের ক্ষতি করে।


১০. ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়
চিনি কোলাজেনের গুণমান কমিয়ে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয়। এটা ব্রণের সমস্যাও বাড়াতে পারে। পাশাপাশি কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষতি করে। চিনি সোরিয়াসিস খারাপ করে এবং ত্বকের প্রদাহ বাড়ায়।

তবে চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় বেছে নিতে পারেন। কেননা চিনির তুলনায় গুড়ের ক্ষতিকর দিক কিছুটা হলেও কম। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত গুড়ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত গুড় খাওয়া উচিত নয়। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য পরিশোধিত চিনির পরিমাণ কমিয়ে গুড় বা অন্যান্য প্রাকৃতিক মিষ্টি উপাদান ব্যবহার করাই ভালো সিদ্ধান্ত।

মন্তব্য করুন


Link copied