নিজস্ব প্রতিবেদক ; রংপুরের বদরগঞ্জে জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে লাভলু মিয়া (৫০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১৮ জন।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। লাভলু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে রায়হান। নিহত লাভলু বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুরের রাজারামপুর গ্রামের মৃত মহসিন আলীর ছেলে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন ঢেউটিন ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জোয়ারদার একই এলাকার ইশতিয়াক বাবুর দোকানঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্তু দোকানঘরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে জানিয়ে ইশতিয়াক বাবু জাহিদুল হক জোয়ারদারকে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু জাহিদুল দাবি করেন, দোকান ঘরের চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের দ্বন্দ্ব শুরু হলে জাহিদুল হক জোয়ারদারের পক্ষে অবস্থান নেন কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক আর ইশতিয়াক বাবুর পক্ষে অবস্থান নেন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার।
এর আগে, গত মঙ্গলবার ইশতিয়াক বাবু দোকানঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরই মধ্যে শহিদুল ইসলাম মানিকের ছেলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য তানভির আহমেদ তমাল, মোহাম্মদ আলী সরকারকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট করেন। এসব নিয়েই উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এদিকে শনিবার সকালে জাহিদুল হক জোয়ারদার দোকান খুলে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তজনার একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এতে অন্তত ১৮ জন আহত হন। তাদের মধ্যে বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের লাভলু মিয়া (৫০), কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর গ্রামের বৈরামপুর গ্রামের মোক্তারুল ( ৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের মুন্নাফ (৫০) লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম (৪৫) একই ইউনিয়নের ময়নাল হোসেন (২৫) গুরুতর আহত হলে তাদের প্রথমে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাভলু মিয়া মারা যান।
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানার পর সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছি এবং সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে। চিঠির জবাব পেলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, ‘একজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে যারা জড়িত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’