নিউজ ডেস্ক: রংপুরের বদরগঞ্জে একটি দোকান ঘরকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লাভলু মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
লাভলু মিয়া রাজরামপুর গ্রামের মৃত মহসিন আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ইটভাটা ব্যবসায়ী ছিলেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে আশেপাশের বেশকিছু দোকানপাট ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সংঘর্ষের পর থেকে বদরগঞ্জ পৌরশহর উত্তাল হয়ে উঠে। রংপুর-বদরগঞ্জ মহাসড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেইসাথে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা ইসতিয়াক বাবুর কাছ থেকে চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। চুক্তিপত্রের মেয়াদ শেষে না হলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে দোকানঘরটি ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি দোকানঘর ছেড়ে না দেওয়ায় মালিকপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকদিন আগে ভাড়াটিয়ার দোকান ভাঙচুর করে তাকে বের করে দেয়। এ নিয়ে শনিবার জাহিদুল ইসলাম তার ভাড়া নেওয়া দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেন। কিন্তু মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই দোকান মালিকপক্ষ ইসতিয়াক বাবর পক্ষে সাবেক সংসদ সদস্য জেলা ও উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিকের প্রায় দুই শতাধিক লোকজন মানববন্ধনের ব্যানার ফেস্টুন ও প্রচার মাইক ভেঙ্গে দেওয়ায় মানববন্ধনের আয়োজন ভেস্তে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ভাড়াটিয়াপক্ষ জাহিদুল ইসরামের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের নেতৃত্বেও প্রায় দুই শতাধিক লোকজন এলে তাদের দু'পক্ষের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। প্রায় ঘণ্টা ব্যাপী চলে এই সংঘর্ষ। ওই সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৩০ ব্যক্তি আহত হয়।
আহতদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন- ইটভাটার মালিক আলহাজ্ব লাভলু মিয়া (৫৫), শফিকুল ইসলাম (৪৫), মোন্নাফ মিয়া (৫৫), ময়নাল হোসেন (৩৬), তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে চিকিতসার জন্য উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে লাভলু মিয়া ও শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হলে লাভলু মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারের পক্ষের লোক।
এদিকে, ঘটনার সময় সাংবাদিকরা বদরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের বারান্দায় নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিলে সংঘর্ষকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানে গিয়ে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের সাংবাদিক ফুয়াদ আলী, গ্লোবাল টেলিভিশনের সাংবাদিক নুরুন্নবী নুরু, দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার বদরগঞ্জ প্রতিনিধি মেজবাউল কবির সবুজ, সাংবাদিক আতিক, বৈশাখী টিভির ক্যামেরাপার্সন মুকুল, এশিয়ান টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন সুমন মিয়া এবং নিউজ টোয়েন্টফোরের ক্যামেরাপার্সন ফারুককে ছবি তোলার অপরাধে মারধর করে এবং তাদের বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিকে কারণ দর্শনণোর নোটিশ দিয়েছেন জেলা বিএনপির চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক হারুন উর রশিদ। কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয় বিএনপির দায়িত্বশীল পদে থাকার পরেও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দখলদারিত্ব ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিসহ আপনার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। যার সাক্ষী আমাদের নিকট রয়েছে।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আতিকুর রহমান বলেন, লাভলু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। এখন পর্যন্ত কোন কাগজ পাইনি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা করেনি। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা টহল দেয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।