আর্কাইভ  মঙ্গলবার ● ১৮ জানুয়ারী ২০২২ ● ৫ মাঘ ১৪২৮
আর্কাইভ   মঙ্গলবার ● ১৮ জানুয়ারী ২০২২

লালমনিরহাটে নৌকার পক্ষে কাজ করায় কুপিয়ে হাত-পা ভেঙে দিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক

রবিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২১, সকাল ০৭:১৩

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করায় আপেল বাবু নামের এক যুবকের হাত-পা ভেঙে দিয়েছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরকার টোটনের সমর্থকরা। 

নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরকার টোটনের (আনারস প্রতীক) সমর্থকরা আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিন নৌকা সমর্থকের কাউকে না কাউকে সামনে পেলেই মারধর করছে তারা।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে টোটনের সমর্থকরা আপেলকে মোবাইল ফোনে মোস্তফি বাজার এলাকায় ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দেয়। বর্তমানে আপেল রংপুর মেডিকেল কলেজে মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধিন আছে।

তৃতীয় ধাপে এ ইউপিতে গত ২৮ নভেম্বর ভোট হয় এ ইউনিয়নে।

অভিযোগে জানা গেছে, নির্বাচনের পর টোটনের লোকজন মুস্তফী বাজারের নৌকার সমর্থকদের দোকান ভাংচুরসহ ও তাদের বেধড়ক পিটিয়ে বাজার থেকে তাড়িয়ে দেয়। এতেও ক্ষান্ত হয়নি তারা। টোটনকে ভোট না দেয়ায় ওই ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন মানুষকে মুস্তফী বাজারে দেখলেই গালাগাল করেন ও ভয়ভীতি দেখান।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় নবনির্বাচিত টোটনের সমর্থকরা গোকুন্ডা ইউনিয়নের মুস্তফী বাজারের আ'লীগ নেতা আব্দুল মতিনসহ নৌকা সমর্থকের কিছু লোকজনের একটি নামের তালিকা তৈরি করে তাদের হুমকি দিচ্ছেন।

গোকুন্ডা ইউপির নৌকা প্রতীকের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী (এখনো দায়িত্বরত চেয়ারম্যান) ও জেলা আ'লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন অভিযোগ করে বলেন, আনারস প্রতীকের নির্বাচিত প্রার্থী আব্দুর রশিদ সরকার টোটনের নির্দেশে ১০-১৫ জন সশস্ত্র সমর্থক পরিকল্পিত ভাবে মোবাইল ফোন আপেলকে ডেকে এনে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং দুই পা কেটে ফেলে। আপেলের অপরাধ ইউপি নির্বাচনে সে নৌকার পক্ষে কাজ করেছিল।  

তিনি আরও জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর টোটন ও তার সমর্থকদের হুমকির কারণে গোকুন্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নৌকার অনেক কর্মী টোটনের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে বর্তমানে বাড়িছাড়া। এসব ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও জেলা আ'লীগের একটি মহলের হস্তক্ষেপে প্রশাসন তেমন কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক মধ্যবয়সী এক ব্যাক্তি বলেন, ‘নৌকার পক্ষে কাজ এবং ভোট দেয়ায় তাদের (টোটন সমর্থক) হুমকীতে আমরা খুব অশান্তি ও ভয়ের মধ্যে আছি।

মুস্তফী এলাকার আ'লীগ নেতা আব্দুল মতিন বলেন, নৌকার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে আমাদের কারও হাত-পা থাকছে না। প্রতিদিন আমাদের কোন না কোন কর্মীকে ধরে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা পঙ্গু করে দিচ্ছে। 

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম বলেন, মুস্তফী এলাকায় এক ব্যাক্তিকে মারধেরের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন


Link copied