আর্কাইভ  শুক্রবার ● ২১ জানুয়ারী ২০২২ ● ৮ মাঘ ১৪২৮
আর্কাইভ   শুক্রবার ● ২১ জানুয়ারী ২০২২

৭ মার্চে শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণ স্বাধীনতার ভাষণ ছিলো না- লালমনিরহাটে টুকু

মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, বিকাল ০৬:২৮

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বিএনপি'র স্থায়ী কমিটি'র সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ৭ মার্চে শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণ স্বাধীনতার ভাষণ ছিলো না। এটি ছিলো পাকিস্তানের সাথে সমঝোতার ভাষণ। ২৭ মার্চ শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ দেশে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এটা আওয়ামীলীগ স্বীকার করে না। কারণ এটা স্বীকার করলে শেখ মুজিবর রহমানের গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।

মঙ্গলবার (২৮ডিসেম্বর)  বিকালে লালমনিরহাট প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি'র চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সু-চিকিৎসার দাবী জেলা বিএনপি'র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিএনপি'র রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে এ সমাবেশ শুরু হয়।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন যুদ্ধের মাঠে তখন বেগম খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানীরা গ্রেফতার করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ারও ভূমিকা রয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেছেন। বেগম জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এটা বলতে আওয়ামীলীগের লজ্জা হয়।

তিনি বলেন, আন্দোলন করেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে। এই জালিম সরকার শুধু মানুষের জীবন নিতে জানে জীবন দিতে জানে না। এজন্যই দেশের জনগণ এই অবৈধ জালিম আ'লীগ সরকারকে ঘৃনা করতে শুরু করেছে। তাদের একমাত্র ভয় বাংলাদেশের মানুষের জনপ্রিয় দল বিএনপিকে নিয়ে। আর এই বিএনপিকে ধ্বংসের জন্যই বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে ভয় পায় এই জুলুমবাজ আ'লীগ সরকার।

তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের আগে পাকিস্তানিরা ২৩ বছর দেশ শাষন করেছিল। সে সময় দুঃশাসনের প্রতিবাদ করে দেশের ছাত্ররা রাজপথ প্রকম্পিত করে ৬৯ সালে আইয়ুব খানকে পরাজিত করেছিল। আমরা দেশের জনগণ আন্দোলন করেছিলাম গনতন্ত্রের জন্য, ভোটের জন্য। কিন্তু বর্তমানে বাকশালী শাসন কায়েম করা হচ্ছে।

পরিশেষে তিনি বলেন, দেশের জনগণের একমাত্র দাবী দেশের তিন তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হোক। আর এই দাবী না মানলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই ভোট চোর সারকার পতন ঘটানো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরো বলেন,  মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন আওমীলীগের এম পি -মন্ত্রীরা ভারত পালিয়ে গিয়ে ছিলো। দেশ স্বাধীন হয়েছে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। সেই দিন বেশি দুরে নয় আমরা তারেক রহমানের হাত ধরে বেগম জিয়াকে মুক্তি করে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করবো। শুধু মুরাদ হাসান নয়। মুরাদ হাসানের মত আ'লীগের প্রতিটি নেতার বিদায় হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপি র রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম,  যুবদলের সহ সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী,  যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপি র সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জেলা বিএনপি র সহ সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মমিনুল হক ও হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপি র আহবায়ক মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

এর আগে সমাবেশ শুরু আগে জেলা শহরের বিভিন্ন পথে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেন। বিএনপি র নেতা কর্মীদের সমাবেশ যোগ দিতে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে পথে পথে নানা ভাবে হয়রানী করা হয়। পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা বিএনপি র নেতা কর্মী পায়ে হেটে সমাবেশে যোগদান করেন। এ সময় শহরের মিশন মোড় এলাকায় ছাত্রদলের মিছিলে লাঠিচার্জ করেন পুলিশ সমাবেশ এমন অভিযোগ করেন বিএনপি'র নেতা-কর্মীরা।

মন্তব্য করুন


Link copied